It's Okay to Not Be Okay Review - 2022 | ইট'স ওকে টু নট বি ওকে রিভিউ
It's Okay to Not Be Okay Review - ইট'স ওকে টু নট বি ওকে রিভিউ
প্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো এনিসাবটাইটেল ওয়েবসাইটকে যার মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুতই English Subtitles অথবা SRT file ডাউনলোড করতে পারি যারা আমাদের দ্রুত নিজের ভাষায় মুভি উপভোগ করতে সাহায্য করছে প্রতিনিয়ত। এই সাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার পছন্দের মুভি খুজতে পারেন এবং English Subtitle Download করুন।
It's Okay to Not Be Okay (2020)
Directed by - Park Shin-woo.
Written by - Jo Yong.
It Starring - Kim Soo-Hyun, Seo Yea-ji, Oh Jung-se, Park Gyu-young.
Genre - Romance, Psychological Drama.
Season - 1.
Episodes - 16.
Language - Korean.
গাং-তে একজন নার্স। মানসিক রোগীদের নিয়ে কাজ করে সে। অটিজম স্পেক্ট্রামে থাকা বড় ভাই সাং-তে কে সাথে নিয়ে তার জীবন। সাং-তের একটা সমস্যার কারণে প্রতি বছর জায়গা বদলাতে হয় তাদের। সিউলে একটা হসপিটালে কাজ করার সময় গাং-তের দেখা হয় এন্টিসোশ্যাল চিলড্রেনস বুক রাইটার মুন-ইওং এর সাথে। মুন-ইওং এর তাকে ভালো লেগে যায়। গাং-তে কে নিজের জন্য চাই তার। এই দুজনের মাঝে আবার আছে না বলা অনেক ইতিহাস...
"ইটস ওকে টু নট বি ওকে" ২০২০ এর রোমান্টিক ড্রামা টিভি শো। ড্রামাটি মেলোড্রামা ঘরানার। এই জনরাটি আমার কাছে হিট অর মিস। কিন্তু এই শোটি তার এক্সপার্ট, ডিটেইলড ও ইমোশনাল স্টোরিলাইন দিয়ে অনায়াসে আমার প্রিয় সিরিজগুলোর একটি হয়ে গেছে।
সিরিজটির প্রোডাকশন ভ্যালু একদম টপ নচ। ঝকঝকে কালার প্যালেটে সিনগুলো দেখতেই চোখে আরাম লাগে। শটগুলোতে ক্যামেরার চলাফেরা ছিল গতানুগতিকের বাইরে। এডিটিং ও ছোটখাটো এনিমেশন ইউজ করে চমৎকার কিছু গ্যাগ সিন ছিল তা সহজেই দর্শকের হাসি আদায় করে নেবে। গুড লুকিং সিনেমাটোগ্রাফি গল্পের ইমারশনে যথেষ্ট সাহায্য করেছে।
রুপকথা সিরিজটির থিমের বড় একটি অংশ। মেইন ফিমেইল লিড বাচ্চাদের রুপকথা লেখে। প্রত্যেকটা এপিসোড টাইটেল কোনো না কোনো পুরনো গল্পকে রেফার করছে, যে গল্পগুলো আবার সেই এপিসোডের স্টোরিলাইনের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। পুরনো এই গল্পগুলো সময়ের প্যাসেজে বিভিন্ন চেঞ্জের মধ্যে গিয়ে এখন আমাদের মজার খোরাক হলেও, তাদের অরিজিনাল ফর্মে এই গল্পগুলোর রীতিমতো ব্রুটাল একটি দিক দেখা যায়। এই গল্পগুলোর মাধ্যমে সিরিজটি নিজের সিমিলার ডুয়ালিটির দিকে নির্দেশ করে গেছে বারবার।
এক সিজনের সিরিজ হিসেবে "ইটস ওকে টু নট বি ওকে" বেশ লম্বা একটি সিরিজ। ১৬টি এক ঘন্টার ওপরের এপিসোড সহ মোট রানটাইম ২০ ঘন্টা ২১ মিনিট! কিন্তু সময় যে কোন দিক দিয়ে চলে যাচ্ছে তা দেখার সময় বোঝা যায় না। সিরিজটি এই এফেক্টটি আনতে পেরেছে এই লম্বা সময় কাজে লাগিয়ে ক্যারেক্টারগুলোর এক্সপ্লোরেশনের মাধ্যমে, মানসিক ট্রমার বেশ এনগেজিং একটা পোট্রেয়াল দিয়ে। যেটা কখনো ছিল হার্টওয়ার্মিং, কখনো ছিল হার্টব্রেকিং।
সিরিজটির ক্যারেক্টারগুলোর প্রোফাইল বেশ ইন্টারেস্টিং। মেইন ট্রায়োর মধ্যে বড় ভাইটি অটিজম স্পেক্ট্রামের, যে কিনা অতীতের কোনো ঘটনা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ড্রয়িং এর খুব শখ ওর। তার ছোট ভাইটি নিজের জীবন দিয়ে দিচ্ছে অন্যদের খেয়াল রেখে, পার্সোনাল কিছুর জন্য কোনো টাইম নেই তার। একদম নিখাদ ভালো মানুষ সে। আর তাকে ভালো লেগে যাওয়া মেয়েটি তার ঠিক উলটো। কোনো একটা পার্সোনালিটি ডিজওর্ডার তার আছে নির্ঘাত। তার জীবনের সবাইকে নিজের এক্সেসরী মনে করে সে।
মেয়েটি ইম্পালসিভ, রগচটা ও কারো অনুভূতির ধার ধারে না। সাইড ক্যারেক্টারগুলোর মাঝে আছে এক বন্ধু যে দুই ভায়ের পিছু পিছু ঘুরে বেড়ায়, এক নার্স যে কিনা তার ভালো লাগার মানুষটিকে না পাওয়ার যন্ত্রনায় ভুগছে, এক পাবলিশার ও তার এসিস্ট্যান্ট যারা কিনা এই ড্রামার মাঝে আটকে পড়ে আছে, এক বুদ্ধিমান কিন্তু খেয়ালী সাইকায়াট্রিস্ট ও এক মমতাময়ী মা এবং একগাদা রোগী যাদের সবারই আছে ট্রাজিক কোনো গল্প।
সিরিজটি মেইনলি রোমান্টিক ও সাইকোলজিক্যাল ড্রামা। কিন্তু পাশাপাশি থ্রিলার, মিস্ট্রি ও গথিক হররের ছাপ রয়েছে গল্পে।
রোমান্টিক অংশটি সেন্টার করেছে গাং-তে ও মুন-ইওং এর ওপর। গাং-তে একদম স্ট্রেইট লাইনে থাকা একটি মানুষ। আর মুন-ইওং কোনো কিছুর ধার ধারে না। মুন-ইওং পসেসিভ একজন নারী। গাং-তের শত বাধা সত্ত্বেও তাকে আঁকড়ে ধরতে চায় সে। তার শান্ত, এমপ্যাথেটিক মনের মাঝে নিজের একটা থিতু হওয়ার জায়গা দেখতে পায় ও। গাং-তে নিজের লজিক্যাল মনে বোঝে মেয়েটি যাস্ট ট্রাবল, কিন্তু তার সেন্টিমেন্টাল দিকটি তা মানতে চায় না। সবাইকে হেল্প করার যে প্রবণতা তার আছে, সেটা তাকে বারবার মেয়েটির কাছে নিয়ে যায়।
তাদের এই বিপরীত দিকগুলোই এভাবে তাদের মাঝে একটা আকর্ষণ জিইয়ে রাখে। আবার ঠোকাঠুকির যথেষ্ট রসদও জুগিয়ে যায়। দুজনের মধ্যে একটা বেশ একটা টানাপোড়েন এভাবে চলে এসেছে। ১৬টি এপিসোড ধরে এই দুজনের রিলেশনশীপের প্রগ্রেশন দেখানো হয় বেশ সময় নিয়ে৷
তাই বেশ বিরতী দিয়ে যখন এক-একটা মাইলফলকে তারা পৌঁছায়...একেবারে ফায়ারওয়ার্কস! তাদের রিলেশনশীপটা একদম হেলদী তা নয়, কিন্তু একটা আকুলতা তাদের মাঝে বারবার উঠে আসে যেটা থেকে চোখ ফেরানো যায় না এবং এতে অবশ্যই হেল্প করে গেছে এই ফ্যাক্টটা যে, এই দুই চরিত্রে থাকা কিম সু-হিয়ান ও সেও ইয়ে-জি একদম এঞ্জেলের মতো দেখতে। রোমান্স ন্যারেটিভ যাদের পছন্দ, "ইটস ওকে টু নট বি ওকে"র এই কাপলটি তাদের প্রিয় হয়ে উঠতে সময় লাগবে না।
সিরিজটির রোমান্টিক অংশটি যেমন কিউট, সাইকোলজিক্যাল অংশটি তেমন ডেভাস্টেটিং। সাং-তে ও গাং-তে এবং মুন-ইওং সবাই বেশ ট্রমাটিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে এসেছে। সিরিজটির কিউটসি দিকগুলোর মাঝে মাঝে এই ট্রমাগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং সব কিছু এলোমেলো করে দিতে চায়। মেইন ক্যারেক্টারগুলো ছাড়াও গল্পের কেন্দ্রস্থল সাইকিয়াট্রিক হসপিটালটির রোগীদের মাঝেও আছে অনেকগুলো মন খারাপ করা গল্প।
সিরিজটির ক্যারেক্টারগুলো এসব মানসিক চাপে ভেঙ্গে পড়তে চায়, কিন্তু তাদের কাছের মানুষগুলো তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। যেটা একটা হিলিং প্রসেস শুরু করে। প্রসেসটি আগলি এবং যন্ত্রণাদায়ক, কিন্তু আলটিমেটলি রিওয়ার্ডিং। এই অংশের ছোট-বড় ন্যারেটিভ গুলোর মধ্যে দিয়ে সিরিজটি নিজের টাইটেলের প্রতি বারবার একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে গেছে। সিরিজটির চমৎকার রোমান্সের মাঝে এই অংশটি একটা ওয়েইট নিয়ে আসে, যাতে গল্পটি আরো সিগনিফিকেন্ট হতে পেরেছে।
একজনের ইতিহাসে কি লুকিয়ে আছে তা কাউকে দেখে বোঝা যায় না। এটা "ইটস ওকে টু নট বি ওকে"র বড় একটা থিম এবং প্রধান একটি হুক। সিরিজটির ক্যারেক্টারগুলোর বেশ রিচ এবং ইন্টারকানেক্টিং ব্যাকস্টোরি আছে যেটা সিরিজটি এক্সপার্টলি হিন্ট ও রিভিল করে গেছে।
এই অংশটি ভালোভাবে হ্যান্ডেল করায় সিরিজটি তার প্রতি এপিসোডেই ইমোশনাল সব হাই পয়েন্ট ভালোভাবে এক্সিকিউট করতে পেরেছে, যা দর্শককে কনসিস্টেন্টলি এনগেজড করে রাখে। বিশাল এই সিরিজটি একটানা বোর না হয়ে দেখে যাওয়ার মতো হয়েছে, তার কারণ এমন স্টোরিটেলিং।
সিরিজটির পড়তি দিক খুব একটা নেই। রোমান্টিক এবং সাইকোলজিক্যাল অংশটি চমৎকার, কিন্তু ফিনালের কাছাকাছি সিরিজটি থ্রিলার জনরায় চলে যায়। এই অংশটি পার্সোনালি একটু বেশী মেলোড্রামাটিক ছিল, তবে অনেকের এমনটা মনে হবে না আশা করি। সিরিজটির চমৎকার প্রোডাকশন কোয়ালিটি থাকায় একটু অবাক করা ডিসেপয়েন্টিং দিকটি হলো মিউজিক। ২-৩ টি গানের একদম ওভারইউজ করা হয়েছে যেটা কানে লাগে। গল্পটি চমৎকার, এর সাথে যায় এমন ফ্রেশ একটা সাউন্ডট্র্যাক হলে আরো ভালো হতো।
"ইটস ওকে টু নট বি ওকে" হলো বেস্ট কাইন্ড অব মেলোড্রামাটিক সিরিজ। সিরিজটি তার গল্পে থিমেটিক স্টোরিটেলিং এর চমৎকার ব্যবহার করেছে। মেলোড্রামাগুলোকে কনট্রাস্ট করেছে সময় নিয়ে করা ডিটেইলড ক্যারেক্টার ন্যারেটিভ দিয়ে, যাতে ইমোশনাল অংশগুলো ল্যান্ড করেছে যথার্থ ইমপ্যাক্ট সহ। গল্পের পেছনের গল্প রিভিল করায় ধৈর্য্য ও সময় নেয়ায়, সবসময়ই সামনের এপিসোডগুলো দেখার আগ্রহ জিইয়ে ছিল।
রোমান্স অংশটি যেমন মুখে হাসি তুলে দিয়েছে, সাইকোলজিক্যাল অংশটি তেমন চোখে জল এনে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত মেন্টাল হেলথ ও লাইফ নিয়ে বেশ বুদ্ধিদীপ্ত একটি বার্তা দিয়ে গেছে সিরিজটি। মেলোড্রামার ডেফিনিশন হলো - এমন একটি গল্প যেটা চরিত্র ও ঘটনাবলীকে কিছুটা এক্সট্রিমে নিয়ে যায়, উদ্দেশ্য দর্শকদের ইমোশনালী এক্সপ্লোসিভ একটা ন্যারেটিভ উপহার দেয়া। এটা করা সহজ নয়। অনেক মেলোড্রামাই পরিমিতিবোধ রাখতে না পেরে বিরক্তিকর একটা এক্সপেরিয়েন্স দেয়। কিন্তু ম্যাটেরিয়ালগুলো ঠিকমতো চুজ ও এক্সিকিউট করতে পারলে, এই জনরাটি অত্যন্ত এফেক্টিভ হতে পারে। "ইটস ওকে টু নট বি ওকে" সেটা দেখিয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপনগুলি এখানে দেখানো হবে


মন্তব্যসমূহ