Ready Player One Review - 2018 | রেডি প্লেয়ার ওয়ান

 Ready Player One Review

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো এনিসাবটাইটেল ওয়েবসাইটকে যার মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুতই English Subtitles অথবা SRT file ডাউনলোড করতে পারি যারা আমাদের দ্রুত নিজের ভাষায় মুভি উপভোগ করতে সাহায্য করছে প্রতিনিয়ত। এই সাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার পছন্দের English subtitle movie খুজতে পারেন এবং English Subtitle Download করুন।

Ready Player One (2018) Directed by - Steven Spielberg. Written by - Zak Penn, Ernest Cline. Starring - Tye Sheridan, Olivia Cooke, Ben Mendelsohn, T.J. Miller, Simon Pegg, Mark Rylance Genre - Action-Adventure. Running Time - 2 hours 20 minutes. Based on - Ready Player One by Ernest Cline.


২০৪৫ সাল। জনসংখ্যার রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটেছে পৃথিবীতে। জনসংখ্যার ঘনত্ব এতোই বেশী যে বেশীরভাগ মানুষই এখন থাকে ছোট ছোট ঘিঞ্জি সব বিল্ডিং এ। বস্তির মর্ডানাইজড রুপ যেনো সেগুলো। বাস্তবতা এখন বড়ই কঠিন। বেশীরভাগ মানুষের জন্য বাস্তবতা বেশী ভালো কখনোই ছিল না। কিন্তু এখন মানুষের চাপে সেটা এতোই কুৎসিত রুপ নিয়েছে যে মানুষ এখন আর বাস্তবতায় থাকতে ইচ্ছুক নেই।

Ready Player One Review - 2018 | রেডি প্লেয়ার ওয়ান


দিনের বেশীরভাগ সময়ই তারা কাটায় এক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রোগ্রামে। ওয়েসিস, গেইমমেকার জেমস হ্যালিডের প্রোগ্রামটির ক্রিয়েটর। হ্যালিডে ছিলেন একজন মেজর পপ কালচার গিক। তাই এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আনাচে কানাচে পপ কালচার রেফারেন্স, ইস্টার এগে ভরা। এই অলীক জগতটিই এখন মানুষের কাছে বাস্তবতা। মানুষ এখানে ঘুরে বেড়ায়, খেলে, মানুষের সাথে যোগাযোগ করে, সম্পর্ক গড়ে তোলে।

ইকোনমির প্রায় পুরোটাই এখন ওয়েসিস ঘিরে। এই ওয়েসিসের ভেতরেই চলছে এখন একটা বিশাল রেইস। যা মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। হ্যালিডে মারা যাবার আগে ওয়েসিসে বিভিন্ন জায়গায় তিনটা কি লুকিয়ে রেখে যান। কতগুলো ক্লু এর সমাধান করে এই কি গুলো পেতে হবে। তিনটে কি যে বাগিয়ে নিতে পারবে সে পাবে একটি ইস্টার এগ এবং হ্যালিডের কোম্পানি ও ওয়েসিসের মালিকানা। ব্যাপারটা যে কেবল একটা গেইম খেলে সব পেয়ে যাওয়া সেটা নয়। হ্যালিডের মতে এই প্রত্যেকটা কি খুঁজে বের করতে হলে একজনের মাঝে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকা চাই। তার মতে এমন যে থাকবে, তার হাতেই ওয়েসিসের চাবি মানায়।

প্রায় পাঁচ বছর পেড়িয়ে গেছে এর পর। কেউ একটা কি ও খুঁজে পায় নি। হ্যালিডের কোম্পানি পৃথিবীর ইকোনমিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কর্তৃত্ব হাতে থাকা মানে পুরো পৃথিবীর কর্তৃত্ব হাতে থাকা। তাই কেবল সাধারণ গেমাররাই নয়, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানেরও রয়েছে কনটেস্টটি নিয়ে প্রচন্ড আগ্রহ। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান আইওআই, যাদের রয়েছে বেতনভোগী গেমার ও হ্যালিডের উপর বিশেষজ্ঞ। তারা নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছে কনটেস্টটি জেতার। এসময় দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয় ওয়েইড ওয়াটস। ওয়েসিসে যার নাম পার্জিভ্যাল।

প্রথম ক্লু সমাধান করে প্রথম চাবিটি বাগিয়ে নেয় সে। পাঁচ বছর ধরে চলতে থাকা ওয়েসিসের কন্ট্রোলের জন্য লড়াই এবার একটি তীক্ষ্ণ মোড় নেয়। ওয়েইড ও তার বন্ধুরা দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে কনটেস্টটি জেতার পথে। এদিকে আইওআই এর প্রধান শয়তান নোলান সোরেন্টো সেটা হতে দিতে চায় না। হ্যালিডের কনটেস্ট ঘিরে এবার এক ইঁদুর বিড়াল দৌঁড় শুরু হয়...

আরনেস্ট ক্লাইনের একই নামের বিখ্যাত বই থেকে বানানো। নিজের সৃষ্ট চরিত্র হ্যালিডের মতো ক্লাইন নিজেও একজন পপ কালচার গিক। উপন্যাসটি যেন পপ কালচারের প্রতি ক্লাইনের অর্ঘ্যদান। এমন একটি বইকে রুপালি পর্দায় আনয়ন স্পিলবার্গের হাতেই মানায়।

পপ কালচারে স্পিলবার্গের নামটাই লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে। এমন রেফারেন্স ঠাসানো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির একটা জগতকে মুভিতে ভালোভাবে তুলে আনা যথেষ্টই কঠিন কাজ, তার সাথে আছে বেশ বিস্তৃত কাহিনী। স্পিলবার্গ নিজেও স্বীকার করেছেন এই মুভিটি বানানো ওনার জন্য ছিল একটি অগ্নিপরীক্ষা। তারপরেও ব্লকবাস্টার সিনেমার জনক ঠিকই ছক্কা পিটিয়েছেন। রেডি প্লেয়ার ওয়ান দেখে মজা না পাওয়ার কোনো উপায় নেই। মুভির বড় একটা অংশই ওয়েসিসে, যেখানে সংগত কারণেই ভিডিও গেমস টাইপ ভিএফএক্স।

তারপরেও মুভিটিকে মোটেও আর্টিফিশিয়াল মনে হয় না। ভার্চুয়াল এভাটার গুলোর মাধ্যমেই চমৎকার ভাবে উঠে এসেছে মুভির কাহিনী। চমৎকার ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এ ভরা মনধরানো ফাস্ট পেইসড কাহিনী রেডি প্লেয়ার ওয়ানের। একশন সিনগুলো প্রত্যেকটি একেকটি চমক। ফিউচারিস্টিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পুরো গ্লোরি উঠে এসেছে পর্দায়। চোখ কান খোলা রাখলেই পপ কালচারের বিখ্যাত সব চরিত্রকে দেখা যাবে।

চমৎকার ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, চমৎকার ন্যারেটিভ, পরতে পরতে ইস্টার এগের চমক সহ রেডি প্লেয়ার ওয়ান দর্শককে একটুও জিড়াতে দেয় না। পুরো মুভিটি একটি এড্রেনালিন রাশ। পপকর্ণ ফ্লিক হিসেবে এর চেয়ে বেশী আশা করাটা পাপ। মূল চরিত্রে টাই শেরিডান (মাড, ট্রি অব লাইফ), ওলিভিয়া কুক (মি আর্ল এন্ড দ্য ডাইং গার্ল) নজর কেড়েছেন। দুজনেরই এভাটার পার্ফরম্যান্স ছিল দারুণ (নির্ঘাত মোশন ক্যাপচার), ভয়েস ওভার অসম্ভব বাস্তব। সাইড ক্যারেক্টারগুলোও ছিল ঝলমলে।

"রেডি প্লেয়ার ওয়ান" দেখে এমন একটা জগতে ঘুরে বেড়ানোর আফসোস জাগবেই। এমন একটি স্বপ্নরাজ্য কে না চায়! ভিডিও গেইমস ও এডভেঞ্চার প্রেমীরা এই মুভি না দেখলে মিস করবেন।

বিজ্ঞাপনগুলি এখানে দেখানো হবে

মন্তব্যসমূহ

সংরক্ষণাগার

যোগাযোগ ফর্ম

প্রেরণ

ব্লগ অনুসন্ধান করুন