Braveheart Review - 1995 | ব্রাভেহেয়ারত

Braveheart Review

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো এনিসাবটাইটেল ওয়েবসাইটকে যার মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুতই English Subtitles অথবা SRT file ডাউনলোড করতে পারি যারা আমাদের দ্রুত নিজের ভাষায় মুভি উপভোগ করতে সাহায্য করছে প্রতিনিয়ত। এই সাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার পছন্দের English subtitle movie খুজতে পারেন এবং English Subtitle Download করুন।

ক্ষমতার গুণবিনাশী একটা দিক আছে। যে মানুষ ক্ষমতা পেয়েছে, তার মধ্যে যদি আত্মম্ভরিতা ঢুকে যায়, তাহলেই বিপদ। শাসকের হাতে শাসিতের তখন অত্যাচারিত হওয়া ছাড়া পথ থাকে না। শাসকের হাতের ক্ষমতা তখন এই অত্যাচার বন্ধের পথে একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বন্দি থাকার মানসিকতা মানুষের নেই। আমরা আমাদের হাত-পায়ের শেকলগুলো সবসময়ই ভেঙ্গেই এসেছি। একসময় না একসময় একজন মানুষ ঠিকই শক্তহাতে দাঁড়িয়ে যায়। উচ্চকণ্ঠে বলে "আর নয়!"। এমন একজন মানুষকে নিয়েই"ব্রেভহার্ট" মুভির কাহিনী।

ইংল্যান্ডের রাজা এডওয়ার্ড লংশ্যাংকস স্কটল্যান্ড অধিকার করে নেন, স্কটল্যান্ডের রাজা তৃতীয় আলেক্সান্ডার মারা যাবার পর। দখল নেবার সময়েই স্কটল্যান্ডের বেশ কয়েকজন নেতাকে মেরে ফেলা হয়। অর্থাৎ স্কটল্যান্ডের সাথে ইংল্যান্ডের সম্পর্কটা বিষিয়ে যায়। মেরে ফেলা নেতাদের মধ্যে একজন ছিল উইলিয়াম ওয়ালেস। বাবার মৃত্যুর পর তাকে দেশ থেকে সড়িয়ে ফেলা হয়। তরুণ বয়সে সে ফিরে আসে নিজের জন্মস্থানে। ইংল্যান্ডের রাজত্বে স্কটল্যান্ডে চলছিলো ঘৃণ্য "প্রিমা নক্টে"।

স্কটল্যান্ডের সকল কুমারীকে তার বিয়ের রাতে স্কটল্যান্ডে থাকা ইংল্যান্ডের কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির ঘরে পাঠাতে হতো, সেখানে মেয়েটি হতো ধর্ষিত। এই নিয়ম মেনে না চললে মেয়েটির পরিবারের উপর নেমে আসতো খড়গ। ওয়ালেসের নববিবাহিত স্ত্রী এভাবেই প্রাণ হারায়। ওয়ালেস প্রিয়জন হারানোর বেদনাকে শক্তিতে রুপান্তরিত করে, স্কটল্যান্ডের সবাইকে একত্র করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিপ্লবের আয়োজন করতে থাকে। রচিত হতে থাকে অসাধারণ একটি স্বাধীনতা সংগ্রামের কাহিনী।

Braveheart Review - 1995 | ব্রাভেহেয়ারত



মুভিটা নিয়ে যদি একটা শব্দ বলতে হলে সেটা হবে "উদ্দীপনামূলক"। মুভিটা মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতি একটা স্মারক। মুভিটার বিভিন্ন অংশ আমাকে যথেষ্টই উদ্দীপিত করেছিল। পাঠ্যবইয়ে অনেকবার পড়া রবার্ট ব্রুসের ক্যারেক্টারটি এই মুভিতে আছে দেখে ছেলেমানুষের মতো খুশী হয়ে উঠেছিলাম। মুভিটা শুরু হয় ট্র্যাজেডি দিয়ে, তারপর একটা অংশ বেশ আনন্দঘন, তারপর আরেকটা ট্র্যাজেডি, এরপর শুরু হয় খেলা। ওয়ালেস যেভাবে স্কটল্যান্ডের মানুষদের একত্র করছিল, দেখলে রক্ত গরম হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের শাষকগুলোর প্রতি মন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। স্কটল্যান্ডের বিশ্বাসঘাতকগুলোর প্রতি মনে শাপ-শাপান্ত হতে থাকে। ওয়ালেসের নেতৃত্বগুণ দেখে শ্রদ্ধা হয়। সত্যিই অধিকার না পেয়ে ধুকে ধুকে বেঁচে থাকার চেয়ে অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নামাই উত্তম। শুরুতে হয়তো শাসকের অত্যাচারে মনে শংকা জাগতে পারে, কিন্তু একবার যদি মানুষ রাস্তায় নামে, একবার যদি মানুষ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে, তাহলে একটা পথ ঠিকই পাওয়া হয়ে যায়। ওয়ালেসের শেষ পরিণতি চোখটা ভিজিয়ে দিয়েছিল, তার শেষ চিৎকারটি, সিনেমাটিক হলেও, এখনও মনে আসে।

তবে তারপর স্কটল্যান্ড যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল! বিস্ময়কর! একদম শেষ অংকে রবার্ট ব্রুসের বক্তৃতা, ওয়ালেসের তলোয়ারটি শুন্যে ছুড়ে মারার অংশটি! এখনো চোখে ভাসে! আমার দেখা সবচেয়ে ইন্সপায়ারিং দৃশ্যগুলোর একটি। মুভিটার স্ক্রিপ্ট একেবারে অগ্নিঝরা হয়েছে, এমন একটা মুভি যেমনটা উদ্দীপিত করার কথা, মূল ক্যারেক্টারটির প্রতি যেমন সম্ভ্রম জাগার কথা, সেটা পুরোপুরিই হয়েছে। স্ক্রিপ্টটি বেইজ করা হয়েছে ব্লাইন্ড হ্যারি নামে একজন ঐতিহাসিক কবির কবিতা "দ্য অ্যাক্টেস এন্ড ডেইডিস অব দ্য ইলাস্ট্রে এন্ড ভ্যালিয়েন্ট চ্যাম্পিওন শির উইলিয়াম ওয়ালেস"এর ওপর। এপিক একটা কবিতা এটি।

মুভিটির আরেকটি প্লাসপয়েন্ট হলো মিউজিক। ব্র্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ছিল মুভির সাথে একদম মানানসই। ব্যাগপাইপের মিউজিকগুলো ছিল হৃদয়স্পর্শী। মেল গিবসন একজন নেতার পোট্রেয়াল বেশ ভালোভাবেই করেছেন। তার ডিরেক্টিং প্রতিভাটিও দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। রবার্ট ব্রুসের চরিত্রটি অপেক্ষাকৃত কম সময় পেলেও, একটা লাস্টিং ইম্প্রেসন রেখে গেছে। লংশ্যাংকের চরিত্রটিও বেশ ভিলেনিয়াস ছিল। আমার দেখা বেস্ট একটা কাহিনীবিন্যাস এই মুভির। ইন্সপায়ার্ড হতে চাইলে মুভিটি মোস্ট রেকমেন্ডেড। 

মুভিটি ৬৮তম অস্কারে পাঁচ-পাঁচটি পুরষ্কার পায়। বেস্ট পিকচার, বেস্ট ডিরেক্টর, বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি, বেস্ট মেকাপ এবং বেস্ট সাউন্ড এডিটিং এর পুরষ্কার বাগিয়ে নেয়। মুভিটায় বেশকিছু ঐতিহাসিক চরিত্র ও ঘটনার উল্লেখ থাকলেও, এটাকে ইতিহাসের রেফারেন্স হিসেবে না দেখাই উচিত। মুভিটা হিস্টোরিক্যালি হাইলি ইনএকুরেট। তবে মূল চরিত্র ওয়ালেস স্কটল্যান্ডের একজন ঐতিহাসিক বীর ঠিকই। একজন বীরের কাহিনী হিসেবে মুভিটি গ্রহণ করাই উত্তম। কাহিনীর রদবদল করা হলেও, মুভিটা বেশ উদ্দীপক তাতে সন্দেহ নেই।
বিজ্ঞাপনগুলি এখানে দেখানো হবে

মন্তব্যসমূহ

সংরক্ষণাগার

যোগাযোগ ফর্ম

প্রেরণ

ব্লগ অনুসন্ধান করুন