Everything Everywhere All at Once Review - এভরিথিং এভরিওইয়ার অল এট ওয়ানস রিভিউ
Everything Everywhere All at Once Review
প্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো এনিসাবটাইটেল ওয়েবসাইটকে যার মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুতই English Subtitles অথবা SRT file ডাউনলোড করতে পারি যারা আমাদের দ্রুত নিজের ভাষায় মুভি উপভোগ করতে সাহায্য করছে প্রতিনিয়ত। এই সাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার পছন্দের English subtitle movie খুজতে পারেন এবং English Subtitle Download করুন।
Everything Everywhere All at Once (2022) Directed by - Dan Kwan, Daniel Scheinert. Written by - Dan Kwan, Daniel Scheinert. Starring - Michelle Yeoh. Stephanie Hsu, Ke Huy Quan, Jenny Slate, Harry Shum Jr., James Hong, Jamie Lee Curtis. Genre - Comedy, Drama, Action, Sci-fi. Running Time - 2 Hours 19 Minutes.
এভেলিন এক লন্ড্রোম্যাটের মালিক। তার মালিকানাধীন জায়গাটির অডিট হওয়ার সময় তার হাজবেন্ড ওয়েমন্ডের শরীরে তার এক অল্টারনেট ইউনিভার্স ভার্শন এসে ভর করে৷ এভেলিনকে একপাশে টেনে নিয়ে এই "আলফা ওয়েমন্ড" তাকে বলে, তাদের ইউনিভার্স থেকে ভয়ংকর ক্ষমতাধর একজন মাল্টিভার্সে তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে থামানোর জন্য এভেলিনের সাহায্য চাই তার।
"সুইস আর্মি ম্যান" দিয়ে নিজেদের কমেডি বানানোর ক্ষমতা দেখানোর পর ডিরেক্টিং ডুয়ো দ্য ড্যানিয়েলস এসে হাজির হয়েছেন আরেকটি এবসার্ডিস্ট কমেডি নিয়ে। এবার মাল্টিভার্স নিয়ে বেশ জটিল একটা প্লট। এই প্লটের সাথে তাদের ব্র্যান্ডের এবসার্ডিস্ট হিউমার মিশিয়ে ড্যানিয়েলদ্বয় তৈরি করেছেন অসাধারণ একটি সিনেম্যাটিক এক্সপেরিয়েন্স, যার তুলনা কেবল মুভিটি নিজেই।
ড্যানিয়েলদের কাস্টিং এর প্রশংসা করতে হয়। তার সাথে সেই কাস্টিং এর উপযুক্ত স্টোরিটেলিং এর ও। "সুইস আর্মি ম্যান"এ তারা নিয়ে এসেছিলেন খোদ হ্যারি পটার ড্যানিয়েল রেডক্লিফকে এবং তাকে দিয়েছিলেন একদম আউট অব দ্য বক্স একটা রোল। এবার তাদের মুভিটির মেইন ক্যারেক্টার মার্শাল আর্টস লেজেন্ড মিশেল ইও এবং তাকে এতোটা এক্টিং হেভি একটা পার্ট দিয়েছেন তারা, যেমনটায় আগে মিশেলকে দেখা যায় নি। তার এক্সিকিউশনও হয়েছে দেখার মতো। মিশেল ইও তার ক্যারেক্টারের কনফিউজড বাট ক্যাপাবল ভাবটা ফুটিয়ে তুলেছেন একদম জীবন্তভাবে।
মুভিটির অন্য মূল চরিত্রগুলোও ছিল সারপ্রাইজিং। এভেলিনের হাজবেন্ড, বাবা ও মেয়ের ভূমিকায় ছিলেন যথাক্রমে কি হি কুয়ান, জেমস হং ও স্টেফানি সু। কি হি কুয়ান "টেম্পল অব ডুম" ও "দ্য গুনিজ" এর মতো মুভিতে অভিনয় করেও ইন্ডাস্ট্রিতে চাইনিজ ক্যারেক্টারের ঘাটতি থাকায় বহুদিন অভিনয় করেন নি। এবার ফিরে এসেই একদম ছক্কা হাঁকালেন তিনি। তার ওয়েমন্ডকে ভালো লেগে যেতে একদমই কষ্ট হয় নি। জেমস হং তার ক্যারেক্টারে বেশ শক্ত একটা পার্সোনালিটি নিয়ে এসেছিলেন, যেটা দেখাটা ছিল বেশ এন্টারটেইনিং। স্টেফানি সু তার গোলগাল চেহারাতে তার ঘূর্ণিঝড় সম চরিত্রটিকে যেভাবে তুলে এনেছেন, সেটা একটা বিস্ময় ছিল।
মিশেল ইওর মতো মার্শাল আর্ট লেজেন্ডকে নেয়া মানে সেটার উপযুক্ত একশন সিকোয়েন্স চাই। কি হি কুয়ানও অভিনয় বাদ দিয়ে বহুদিন স্টান্ট কোর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। ড্যানিয়েলদ্বয় এই দুজনকে ঝলক দেখানোর ভালোই আয়োজন করে দিয়েছিলেন। একদম জ্যাকি চ্যান লেভেলের না হলেও ইনভেন্টিভ ক্যামেরা ওয়ার্ক, বিভিন্ন অবজেক্টের কমেডিক ইউজ ও ফাইটের মধ্যেও একটা স্টোরিটেলিং সহ মুভিটির একশন সিকোয়েন্স থেকে চোখ ফেরানো যায় না।
ড্যানিয়েলদের একদমই এবসার্ড হিউমারের একটা স্বাদ "সুইস আর্মি ম্যান"এ পাওয়া গিয়েছিল। তবে ওই মুভি এটার তুলনায় কিছুই না। যাস্ট কি খেয়ে এই দুজন স্ক্রিনপ্লে লিখতে বসেছিলেন কে জানে। মুভিটির সাই-ফাই অংশটি ছিল ইন্টার্নালি কন্সিন্টেন্ট এবং একদমই উদ্ভট। বিভিন্ন অবজেক্টের পেটে খিল ধরিয়ে দেয়ার মতো ব্যবহার দেখানো হয়েছে মুভিটিতে। বিশেষ করে একটা এডাল্ট টয় নিয়ে একটা সিন...পজ দিয়ে এটা কি দেখলাম সেটা হজম হওয়ার পর হাসি থামতে চাইছিল না। এধরনের হিউমার ভালো লাগে কিনা তার ওপর মুভিটি ভালো লাগা অনেকটাই নির্ভর করছে, মুভিটির সেন্স অব হিউমার ধরতে পারলে দুই ঘন্টা যে কোনদিক দিয়ে চলে যায় তা বোঝাই যাবে না।
"এভরিথিং এভরিহোয়ার অল এট ওয়ান্স"এ কমেডির যতোই পরত থাকুক না কেন, গল্পটি কিন্তু বেশ হেভি। এভেলিনের জীবনের দুজন কাছের মানুষের মধ্যে দিয়ে তার কাছে এবং একই সাথে দর্শকের কাছে মুভিটি একটা প্রশ্ন তুলে যায়। মহাবিশ্বের তুলনায় আমরা অতি ক্ষুদ্র। এই বিশাল ক্যানভাসে আমাদের জীবনের প্রব্লেম, হ্যাপিনেস, স্যাডনেস, ড্রিমস কিছুই কোনো দাগ রেখে যায় না। এই বিশালত্বের মাঝে, আমাদের জীবনের স্ট্রাগলের কিই বা অর্থ? এসবের মাঝে কোন দিশাটি ধরে আমরা জীবনের অর্থ খুঁজে নেব?
মুভিটি এই প্রশ্নটির একদমই সেন্টিমেন্টাল একটা উত্তর দেয়। ড্যানিয়েলরা অনেক ছেলেমানুষী হিউমার মুভিতে মেশালেও গল্পের চরিত্রগুলোকে ক্যাওটিক ঘটনাবলীর মধ্যেও নিজেদের মাঝে ইন্টারেকশনের যথেষ্ট সময় দিয়ে গেছেন। গল্পের রানটাইমের চৌকস ব্যবহার করে চরিত্রগুলো নিজেদের ভালোভাবেই জানান দিয়ে যায় এবং সেটা শেষ পর্যন্ত তাদের ও দর্শকদের একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে নিয়ে আসে। স্টোরিটেলিংয়ের জোরে এই জায়গায় এসে পৌঁছানোটা ছিল বেশ ইমোশনাল, গলা আঁটকে আসবে অনেকেরই। মুভিটির এবসার্ড ঘটনাবলী দিয়ে এমন সিম্পল, কিন্তু একই সাথে ডিপ একটা বার্তা দিয়ে যাওয়াটা ছিল বিস্ময়কর।
বর্তমান ইন্ডাস্ট্রিতে ইনোভেটিভ কাজ হচ্ছে না এটা প্রায়ই শোনা যায়। এই মুভিটির বাজেট ছিল ২৫ মিলিয়ন। কিন্তু অন্য ১৫০-২০০ মিলিয়ন ডলারের টেন্টপোল মুভিগুলোর তুলনায় মুভিটি যা দেখাতে পেরেছে, সেটা দেখে বড় বড় স্টুডিওগুলো লজ্জা হওয়া উচিত। বাস্তবতা হচ্ছে ড্যানিয়েলদের মতো নির্মাতারা সবসময়ই আছেন। দর্শক ও ফাইনানশিয়ারদের ব্যাকিং পেলে তারা চোখ ধাঁধানো সব কাজ উপহার দিতে পারেন।
এবসার্ড হিউমার যদি ভালো লাগে, "এভরিথিং এভরিহোয়ার অল এট ওয়ান্স" অবশ্যই দেখুন।
বিজ্ঞাপনগুলি এখানে দেখানো হবে

মন্তব্যসমূহ