Dune Reviews - ডিউন রিভিউ - 2022
Dune Reviews - ডিউন রিভিউ
প্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো এনিসাবটাইটেল ওয়েবসাইটকে যার মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুতই বাংলা সাবটাইটেল ডাউনলোড করতে পারি যারা আমাদের দ্রুত নিজের ভাষায় মুভি উপভোগ করতে সাহায্য করছে প্রতিনিয়ত।
আরাকিস একটি ডেজার্ট প্লেনেট। এখানেই পাওয়া যায় মহামূল্যবান "স্পাইস", যা কিনা ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলের জন্য খুবই প্রয়োজন। তাই প্লেনেটের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বেশ পলিটিক্স বিদ্যমান। হাউজ হারকোনেন এর পর, এম্পায়ারের আদেশে স্পাইস হারভেস্টিং, ডেলিভারি ও প্লেনেটটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পড়ে হাউজ আট্রেইডিসের ওপর। পল আট্রেইডিস হাউজের প্রধান লিটোর একমাত্র ছেলে। তার পরিবার যখনই আরাকিসে মুভ করতে রেডি হচ্ছে, তখনি সে কিছু স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। যা কিনা তাকে যুগান্তকারী একটা সময়ের মাঝে ঠেলে দেয়।
সর্বকালের সেরা সাই-ফাই নভেলগুলোর কথা উঠলে ফ্র্যাংক হার্বার্টের ডুনের নাম আসবে একদম সামনের দিকটায়। নভেলটির একইসাথে স্ক্রিন এডাপ্টেশনের জন্য উপযুক্ত না হওয়ার একটা রেপুটেশন আছে। বিখ্যাত ডিরেক্টর ডেভিড লিঞ্চ '৮৪ সনে একটা এডাপটেশন করেছিলেন যেটা অডিয়েন্স, ক্রিটিক, বক্স অফিস কোথাও ভালো করতে পারে নি। এবার প্রেজেন্টলি সবচেয়ে এক্সাইটিং ডিরেক্টরদের একজন ডেনি ভিলানুভ যখন মুভিটি বানানোর দায়িত্ব পান, তখন তার ওপর ভীষণ একটা দায়িত্ব এসেছিল অবশ্যই। এডাপ্টেশন নিয়ে কুখ্যাতি থাকা নভেলটির একটা স্যাটিসফাইং এডাপ্টেশন করাটা যেকোনো ডিরেক্টরের সিনেমাটোগ্রাফিতে বিশাল একটা সংযোজন। ভিলানুভ এই চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করেছেন বেশ এডমায়ারেবলি।
প্রথমে বলে রাখা ভালো প্রমোশনাল ম্যাটেরিয়ালে কেবল ডুন নামটি ইউজ করলেও এটা আসলে ডুনঃ পার্ট ওয়ান। ভিলানুভ দ্বিতীয় পার্ট লেখা শুরু করেছেন, এমনকি তৃতীয় একটি মুভিও বানানোর ইচ্ছে আছে বলে উনি জানিয়েছেন। মুভিটির এই বড় পরিসরের ব্যাপারটা বুঝলে গল্পের গতিবিধি আরেকটু ক্লিয়ার হয়। ডুনের গল্প এখানে শেষ নয়, এটা কেবল শুরু।
"ডুন" আগামী অস্কারে প্রোডাকশনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যে বেশ স্ট্রং কন্টেন্ডার হিসেবে থাকবে তা এখনই বোঝা যায়। মুভিটির এফেক্টিভনেসের বড় একটা অংশের ক্রেডিট দিতে হবে প্রোডাকশন ডিজাইনকে। ভিলানুভ প্রথম থেকেই সিজিআই এর ইউজ কিছু কম রেখে লোকেশন ও বিশাল সেটে শ্যুট করায় জোর দিয়েছিলেন। সেটার পে-অফ হয়েছে অসাধারণ। একচুয়াল ডেজার্টে শ্যুট করাটা মুভিটির বিভিন্ন সিনকে জীবন্ত করেছে এবং ভিএফএক্সে ভালো রেফারেন্স পয়েন্ট দিয়েছে। সেটগুলো ছিল চোখধাঁধানো। কস্টিউমগুলো তাদের স্থান-কাল চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছে। বিভিন্ন মেশিনারির ডিজাইন ছিল দেখে থাকার মতো। মুভিটি মডার্ন সাই-ফাই ইমেজারিতে একটা স্টান্ডার্ড হয়ে থাকবে তা অবশ্যই বলতে হয়।
ডুনের এডাপ্টেশন করাটা যে চাট্টিখানি কিছু নয় সেটা মুভিটির শেষ দিকে বোধে আসে। তার সাথে ভিলানুভের প্রতি রেস্পেক্টটাও বেড়ে যায়। কন্সিস্টেন্টলি ভালো কাজ উপহার দেয়া এই ডিরেক্টর মুভিটির মুডটি যেভাবে বের করে এনেছেন তা দেখে থাকার মতো। শুরু থেকেই "ডুন" দর্শকের মনোযোগ বেশ শক্তভাবে টেনে ধরে। চমৎকার প্রোডাকশন ডিজাইনের যথার্থ ব্যবহার করে ভিলানুভ গল্পটির স্থান-কাল চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আরাকিসের পুরো চিত্রটি ক্যানভাসে ধীরে ধীরে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি এই ডেজার্ট প্লেনেটকে কেন্দ্র করে জাগ্রত হতে থাকা পলিটিক্যাল টারমোয়েল ও চরিত্রগুলোর এসব কিছুর মাঝে নিজেদের ধরে রাখার স্ট্রাগলটি তিনি নিজস্ব পেসিংকে দেখিয়ে গেছেন। ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং ও স্টোরিটেলিং এর একটা ডেলিকেট ব্যালেন্স তিনি তৈরি করে নিতে পেরেছেন, যা ডুনকে একটা স্ট্রং সিনেম্যাটিক এক্সপেরিয়েন্স হিসেবে তুলে এনেছে।
ডুনের গল্পটির কমপ্লেক্সিটি বেশ। বিভিন্ন গ্রুপের মানুষ আছে এখানে যাদের সবারই একটা সিগনিফিকেন্ট প্রেজেন্স দেখাতে হয়েছে। এছাড়া স্পাইস প্রোডাকশন, নতুন একটা এডমিনিস্ট্রেশন হাতে নেয়ার পলিটিক্যাল প্রসেস, হাউজ আট্রেইডিস ও তার সদস্যদের বিভিন্ন এজেন্ডা, তাদের বিরোধীদের এজেন্ডা সব মিলিয়ে মুভিটি বেশ হেভি ফিস্ট। ভিলানুভ সবকিছু যেভাবে ব্যালেন্স করে গেছেন তা প্রশংসার দাবীদার। গল্পটির এপিক স্কেইল হ্যান্ডেল করা হয়েছে দক্ষতার সাথে এবং দর্শক মুভিটিকে ইভেন্ট মুভির একটা যোগ্য উদাহরণ হিসেবে চিনে নেবেন।
গল্পের কমপ্লেক্সিটি ও এপিক স্কেইল সহ "ডুন" এর পুরো স্বাদটি নিতে রিপিট ভিউয়িং এর বেশ দরকার আছে। মুভিটি ইনসেপশনের মতো কনফিউজ করে দেবে না। তবে গল্পটির অনেকগুলো মুভিং পার্ট সহ মুভিটি ডেফিনিটলি সেসব মুভির কাতারে পড়ে, যেগুলো একবার দেখার পর বেশ বড় স্কেলের কিছু দেখলাম এটা মনে হয়। মুভিটির সব দিক ভালো ভাবে গ্রহণ করার জন্য তাই আরো একবার দেখাটা উচিত হবে।
মুভিটির প্রোডাকশন ডিজাইন ও ভিলানুভের সিদ্ধহস্তের ডিরেকশনে আরেকটি এলিমেন্ট যুক্ত হয়ে মুভিটির এটমোস্ফিয়ারকে একটা আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সেটা অবশ্যই হান্স জিমারের মিউজিক। ওনার ফিল্মোগ্রাফীতে "ডুন" একদমই আলাদা ধরনের একটা কাজ হয়ে থাকবে। ডিসির সুপারহিরো মুভিতে করা স্কোরের বারবার শোনার মতো ট্র্যাক এখানে আছে মনে হয় নি। তবে গল্পের মধ্যে যে এপিকনেস ও অস্থিরতা আছে সেটা তিনি এমনভাবে তার স্কোরে তুলে এনেছেন যে তার মিউজিক গল্পের সাথে একদম মিশে গেছে। গল্পের কমপ্লেক্সিটির দারুণ একটা প্রতিফলন দেখা গেছে জিমারের স্কোরে। মুভিটির এনভায়রনমেন্ট ও এটমোস্ফিয়ার জিমারের স্কোর ব্যতিত একদমই খালি খালি লাগতো। এমন একটা প্রেজেন্সের স্কোর সচরাচর দেখা যায় না।
"ডুন" এর চরিত্রগুলোর মধ্যে আট্রেইডিস পরিবারের সবাই ও মোমোয়ার ডানকান আইডাহো ছিল স্ট্যান্ড আউট। ভিলানুভ বলেছিলেন যে শ্যালামে যদি পলের চরিত্রটি না নিতেন তাহলে উনি মুভিটি বানাতেন না। সেটা কেন তা শ্যালামের অভিনয়ে সুস্পষ্ট হয়ে যায়। পলের ধীরে ধীরে নিজের ডেস্টিনির লাগাম টেনে ধরাটার মানসিক চাপটি উনি ফুটিয়ে তুলেছেন দারুণভাবে। পলের চরিত্রটি যে একটি স্টার ইন দ্য মেকিং সেটার তার অভিনয়ে যথাযথ ভাবে উঠে এসেছে। অস্কার আইজ্যাকের অভিনয়ে ডুক লিটোর সম্ভ্রম, সততা ও বিশাল একটা দায়িত্ব নেয়ার চাপটি উঠে এসেছে দারুণভাবে। রেবেকা ফার্গুসন তার লেডি জেসিকা চরিত্রটির রহস্যময় ভাবটি তুলে এনেছেন এফেক্টিভলি। মোমোয়া তার চরিত্রের লয়ালটি ও কেয়ারিং ভাবটি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্য ক্যারেক্টারগুলো কিছুটা ওয়ান নোট হলেও গল্পে তাদের প্লেসিং এমন ছিল সবটা মিলে একটা ভালো ক্যারেক্টার প্যালেটের সৃষ্টি হয়।
"ডুন" দেখে ওঠার পর মুভিটির বিশাল স্কেলের প্রশংসা না করে থাকা যায় না। গল্পের কমপ্লেক্সিটিও অনেকটা ভাবায়। কিন্তু এসবের চাপে ক্যারেক্টার মোমেন্টগুলো একটু হারিয়ে গেছে মনে হয়। গল্পের গতিবিধির জটিলতা, অনেকগুলো ক্যারেক্টার, সাই-ফাই জগতটির এক্সপ্লোরেশন, কামিং স্ট্রাগলের সেট আপ সব একটা ভালো পেসিংএ উঠে এসেছে। কিন্তু গল্পের মুভিং পার্টস অনেক থাকায় মুভিটি যখন শেষ হয়ে আসছে তখন একটু মনে হতে থাকে যে ক্যারেক্টারগুলোকে আরেকটু চেনা হলে ভালো হতো। মুভিটি তাও এতো কম্পলেক্স একটা বই এডাপ্টেশনের একটা মাস্টারক্লাস। এরপরেও মুভিটিকে লার্জলি একটা সেট আপ বলে মনে হয় যেটা ঠিক ওয়েল রাউন্ডেড একটা এক্সপেরিয়েন্স দেয় না। এটা যে পার্ট ওয়ান তা বেশ বোঝা যায়। হয়তো অন্য মুভিগুলো বের হবার পর ব্যাক টু ব্যাক দেখলে মুভিটির রিচ টাপেস্ট্রি আরেকটু ভালো এপ্রিশিয়েট করা যাবে। আপাতত তাও মনোমুগ্ধকর মুভিটির শেষে একটা বেশ বড় টু বি কন্টিনিউড সাইন ঝুলে আছে।
"ডুন" তার সোর্স ম্যাটেরিয়ালের এপিক সাই-ফাই ট্যাগের যোগ্য মর্যাদা রাখতে পেরেছে। কন্টেম্পোরারি টেন্টপোল মুভিগুলোর মধ্যে প্রথম সারির একটা এন্ট্রি শুরু হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। এখন বাকি চ্যাপ্টারগুলোর অপেক্ষা। এপিক ফ্যান্টাসি/সাই-ফাই যাদের পছন্দ, মুভিটি অবশ্যই অবশ্যই দেখুন।


মন্তব্যসমূহ