Sita Ramam Reviews - সীতা রামাম- ২০২২

Sita Ramam Reviews

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো এনিসাবটাইটেল ওয়েবসাইটকে যার মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুতই English Subtitles অথবা SRT file ডাউনলোড করতে পারি যারা আমাদের দ্রুত নিজের ভাষায় মুভি উপভোগ করতে সাহায্য করছে প্রতিনিয়ত। এই সাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার পছন্দের মুভি খুজতে পারেন এবং English Subtitle Download করুন।

#01

চিঠির মাধ্যমে শুরু হওয়া দুইজন মানুষের নিখাদ প্রেমের গল্প। ছয়'শ টাকা বেতন পাওয়া একজন আর্মি অফিসারের টানে রাজ্য ছেড়ে আসা একজন প্রিন্সেস এর গল্প। একসাথে কাটানো বেখেয়ালি শত মুহুর্ত, হৃদয়- ভোলানো নিস্পাপ অনুভূতি, সীমানার এপারে আবেগ হারিয়ে অন্যপারে ভাঙা- গড়ার নতুন ইতিহাসের গল্প। প্রণয়- অশ্রু- বেদনায় জর্জরিত প্রিয় মানুষটির উপস্থিতির তুষ্টি কিংবা অনুপস্থিতির দীর্ঘশ্বাসের গল্প।

Sita Ramam Reviews


কাশ্মীরে কর্মরত সেনাবাহীনির লেফট্যানেন্ট 'রাম' মূলত অনাথ। একটা অপারেশনে রামের অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ছড়িয়ে পড়া সুনামে রাম’কে নিয়ে করা একটি রেডিও প্রোগ্রামের সৌজন্যে তার কাছে আসতে থাকে শত শত চিঠি। কোন চিঠি না দেখা বীর কিংবা অদেখা ভাইকে উৎসর্গ করে।

এমন হাজারো চিঠির মাঝে একটি চিঠি আসে ‘সীতামহালক্ষী’র কাছ থেকে যার প্রতিটি চিঠির শেষে লেখা- ‘ইতি তোমার বউ সীতামহালক্ষী’ কিন্তু কোন চিঠিতেই যে সীতা’র ঠিকানা নেই! অবাক হওয়া অবিবাহিত রাম সীতামহালক্ষী’র হৃদ-অনুভুতির শব্দচয়নের প্রেমে পড়ে ২ মাসের ছুটি নিয়ে হন্য হয়ে খুঁজতে থাকে তার সীতা’কে। ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৪; মাঝখানের এই ২০ বছরের মায়ায় জড়ানো অনুভুতি আর ভালোবাসায় ঘটতে থাকে একের পরে এক ঘটনা।

অন্য দশটা প্রেমের গল্প নয়, একদম ব্যতিক্রম এই ভালোবাসার গল্প। চিরাচরিত ভারত- পাকিস্তান দ্বন্দের গল্প হলেও কোন অপ্রয়োজনীয় দৃশ্যায়ন- ধুমধাম গুলাগুলি নেই। প্রায় ৯৫ ভাগ বলিউডি মুভিতে পাকিস্তানিদের খর্ব করে দেখানো হলেও এই মুভি এখানে কিছুটা ব্যতিক্রম- একজন পাকিস্তানি আর্মি অফিসারের হৃদয় মর্ম দিয়ে শুরু হওয়া গল্পের পুরোটা জুড়েই ছিল প্রাণবন্ত।

"সীতা রামাম" এর পুরোটা জুড়ে ‘রাম’ অর্থাৎ দুলকার সালমান হলেও ম্রুনাল ঠাকুর অর্থাৎ ‘সীতা’ ছিল পুরো মুভির প্রাণ! তার নিস্পাপ মুখাবয়ব, প্রেমানুভুতি, পরিশুদ্ধ চাহনি আর দূর্দান্ত অভিনয়ে পুরো সময় জুড়ে আটকে থাকতে হয়। কাহিনীর প্রয়োজনে এক এক করে গড়তে- ভাঙতে থাকা ম্রুনালের অন্ত-অনুভুতি, ক্রন্দন- প্রেম কিংবা অপ্রাপ্তি অজান্তেই চোখ ভিজায়। গল্প শেষ হলেও তাই চোখে লেগে থাকে 'সীতা মহালক্ষী'র পরিণতি। যে পরিণতি কাঁদায়, ভাবায়, হতবিহ্বলও করে দেয়।

দুলকার সালমান ও কোন অংশে কম ছিলেন না, নিজের সবটুকু ঢেলে দিয়েছেন পুরো সিনেমায় প্রাণ সঞ্চারণে। এই দুইজনের প্রাপ্তির উচ্ছাস কিংবা না পাওয়ার বেদনার দীর্ঘশ্বাস স্ক্রীন ছাড়িয়ে অবলীলায় দর্শকের মন পর্যন্ত পৌঁছায় আর তাই গল্প শেষ হওয়ার বহু সময় পরেও ‘সীতা রামাম’ হৃদয়জুড়ে লেপ্টে থাকে।

সিনেমার কোরিওগ্রাফি দূর্দান্ত স্পেশালি ভূ-স্বর্গ কাশ্মিরের। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গান ও ছিল প্রাণবন্ত।
সত্যিকারের সম্পর্কে কোনদিনও অনুভূতির মৃত্যু হয় না যা কিনা একদম বাস্তব হয়ে ফুটে উঠেছে ‘সীতা-রামাম’ মুভিতে। এমন অনূভুতিগুলো আজীবন জীবিত থাকুক! রামের বুকে সীতা, সীতার স্মৃতিতে রাম বেচেঁ থাকুক চিরকাল!!

#02
মুভিটা দেখার পর রিভিউ দেয়া হয়েছে হয়তো অনেক, দেখতে দেখতে বিরক্তিও এসে যাচ্ছে অনেকের। তবুও এই মুভি দেখার পর অনুভূতি জানানো থেকে শতচেষ্টায়ও বিরত রাখতে পারছিনা নিজেকে।
এই মুহূর্তে আপনি একটা রোমান্টিক মুভি সাজেশান চাইলে আমি Sita Ramam মুভিটার কথাই বলবো।
প্রেমের গভীরতার সৌন্দর্য যে কি মারাত্মক অনুভূতি এবং স্বাদ দিতে পারে জীবনকে, সে এক জীবনের সত্যিকার প্রেমানুভূতি গুলো জানায় আর এমন চমৎকার সব প্লটে নির্মিত রোমান্টিক মুভির বাস্তবধর্মী চিত্রায়ণ জানায়।
গত রাতে দেখা সীতা রাম মুভির আবেশ বাকি এক সপ্তাহেও কাটবে কিনা সন্দেহ। সীতা আর রামের চিঠির যুগের স্নিগ্ধ-সুন্দর এই গভীর প্রেমের কাহিনি মুভি দেখার পুরোটা সময় জুড়ে মোহিত করে রাখবে আপনাকে।
রামের বীরোচিত আচরণ, সীতার ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্য, তাদের ভালোবাসার গভীরতায় আপনি হারিয়ে থাকবেন২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট।
প্লট, ব্যাকগ্রাউড মিউজিক, ডায়লগ ডেলিভারি, ইমোশন এ্যাক্সপ্রেশান, সব মিলিয়ে আমি সাউথ ইন্ডিয়ান রোমান্টিক মুভির মধ্যে এটাকে সেরার তালিকায় রাখতে চাই।
Sita Ramam Reviews - সীতা রামাম- ২০২২


রাম চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার বরাবরের মতই অসাধারণ তার অভিনয় দক্ষতায়। সৈনিক দুলকারের প্রেমের গভীরতা, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম সব কিছুর মিশেলে কি দারুণ নায়ক হয়ে উঠা! আর তার সাথে ম্রুনাল ঠাকুরের ক্যামাস্ট্রিতে দারুণভাবে রানিং করেছে মুভি। টুইস্টও আছে সবটা জুড়ে।
কাশ্মীরের অপরুপ সৌন্দর্য, সীতার শাড়ির কস্টিউম, বৃষ্টি আর তুষারপাতের দৃশ্যের সৌন্দর্য মুগ্ধ করছিল বারবার।
এখনকার ডিজিটাল যুগে এসে চিঠির যুগের সময়টাকে কীভাবে এতো দারুণ করে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব! সব মিলিয়ে রোমান্টিক মুভি জনরায় মাস্টারপিস বলা চলে।
রোমান্টিক মুভি পছন্দ করে থাকলে Sita Ramam মাস্ট ওয়াচ মুভি আপনার জন্য। প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে দেখুন, প্রিয়জন দূরে থাকলে সাজেস্ট করুন, আপাতত প্রিয়জন না থাকলে এমন প্রেমের গভীরতা নিয়ে অপেক্ষা করুন।

#03
এমন গল্পে দুলকার এর অভিনয় যেন চোখের এক প্রশান্তি।
বলিউড এর সেই পুরোনো সময়ের কথা মনে পড়ে গেলো।যেখানে সুন্দর গল্পের সাথে তাল মিলিয়ে অভিনয় জীবন্ত হয়ে উঠত।সুন্দর সিনেমাটোগ্রাফি,কস্টিউমস,বিজিএম,কালার গ্রেডিং এবং কিছু ইউনিক ট্রেন্ড যা লম্বা সময় মানুষকে সিনেমার প্রতি আকৃষ্ট করে।

সাউথ ইন্ডাস্ট্রির এই উত্থান এর পেছনে তাদের সিনেমার এলিমেন্টস গুলোর পর্যাপ্ত প্রয়োগ, সংস্কৃতি থেকে পিছপা না হওয়া এবং ভালো ডিরেকশন এর ভূমিকা সত্যিই প্রসংশার দাবিদার।"Sita Ramam "এর মেকিং আবারও আপনাকে সত্যিকার অর্থে সিনেমার এই নস্টালজিক ভাইব টা দিবে। নো স্পয়লার "Sita Ramam" এর গল্প ইউনিক কিছু নয়।পূর্বে ও এই ধাচের সিনেমা দর্শক উপভোগ করেছে।তারপর ও এই সিনেমা দর্শকমহলে ইউনিক থেকেও বেশি কিছু যার অন্যতম কারণ এর সেই ভিন্ন ধারার মেকিং। সত্যিই এই জন্য আজ এই ফিল্ম প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
সিনেমার ৫ টি দিক আমার পুরোপুরি অনন্য লেগেছে।যা হলো অভিনয়,ডিরেকশন,লোকেশন, কস্টিউম,মেকআপ।এই রকম পিরিয়ডিক স্টরিটেলিং এ এই সব বিষয় পুর্ণসংযোজন দরকার।

এতে সেই সময়কার একটা ডিটেইলস ভিউ পাওয়া যায়।রাম এবং সিতা কেরেক্টার এ দুলকার এবং এর অভিনয় ফিল্মে আলাদা একটা চার্ম ক্রিয়েট করতে পেরেছে।তাদের অভিনয় এর মুগ্ধতায় গল্প শেষে রয়ে যাবে আক্ষেপ শুধুই আক্ষেপ।রশ্মিকার অভিনয় কোনো দিনও ভালো লাগে নাই এর আশা করি লাগবেও না।

এক লম্বা সময় পর যেনো কোনো মুভিতে কস্টিউম এর আলাদা কাজ দেখতে পেলাম।এই জন্য কস্টিউমডিজাইনার কে বাহবা দেওয়াই লাগে।মুভির সেট ডিজাইন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ছিল দারুন।পরিশেষে এটাই বলবো,"Sita Ramam" ছিল মুভিলাভারসদের জন্য বড়সড় এক ট্রিট।

বিজ্ঞাপনগুলি এখানে দেখানো হবে

মন্তব্যসমূহ

সংরক্ষণাগার

যোগাযোগ ফর্ম

প্রেরণ

ব্লগ অনুসন্ধান করুন